ট্রাম্পের ডেডলাইনের মুখে অনড় তেহরান, পাকিস্তানের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল ইরান। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে সেটিকে ‘অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো প্রকার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ইরান আলোচনা চালিয়ে যাবে না। আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের পরিকাঠামোতে আঘাত করার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক নতুন শান্তি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শত্রুতা নিরসনে পাকিস্তান একটি দুই স্তরের রূপরেখা তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে এই খসড়ায়। পাকিস্তানই বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবের জবাবে তারা নিজস্ব একটি খসড়া প্রস্তুত রেখেছে এবং সময়মতো তা প্রকাশ করা হবে। তেহরানের দাবি, একদিকে যেমন সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে রাখা হয়েছে, তেমনই কূটনীতির রাস্তাও খোলা রাখা হয়েছে। তবে আপাতত তাদের মূল লক্ষ্য হলো লাগাতার আক্রমণের মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এই জটিল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক বা ‘MoU’ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চললেও, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানায়নি।
ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত সাংবাদিক সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ১৫ দফা প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবারের সময়সীমার আগে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছায় নাকি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।