ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুখে, ইরানে যুদ্ধকালীন তৎপরতা, বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় তরুণদের মানবপ্রাচীর

ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুখে, ইরানে যুদ্ধকালীন তৎপরতা, বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় তরুণদের মানবপ্রাচীর

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ এখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা বা ডেডলাইন শেষ হওয়ার ঠিক আগেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশই এখন সরাসরি সংঘাতের পথে। এই পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষায় ইরানের রাজপথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্ম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চারপাশে ‘মানবশৃঙ্খল’ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে, যা বর্তমান সংকটে প্রতিরোধের এক নতুন প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, শিল্পী এবং বিভিন্ন যুব সংগঠন এই অভিনব কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানের তরুণদের মানবশৃঙ্খল’ শীর্ষক এই কর্মসূচি মঙ্গলবার দুপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে শুরু হওয়ার কথা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই মানবপ্রাচীর গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত দেশের জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো রক্ষার প্রতি ইরানের যুব সমাজের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নিলে আমেরিকা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ট্রাম্পের দাবি, প্রয়োজনে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম মার্কিন বাহিনী। বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

ডেডলাইনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা তত বাড়ছে। একদিকে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুমকি, অন্যদিকে ইরানের তরুণদের প্রতিরোধমূলক মানবশৃঙ্খল—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, মঙ্গলবার রাতের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। ইরানের এই প্রতীকী প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক শক্তিকে থমকে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *