ট্রাম্পের দম্ভ চূর্ণ: ইরানি হামলায় ভূপতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান, ফিরছে মোগাদিশুর স্মৃতি

ট্রাম্পের দম্ভ চূর্ণ: ইরানি হামলায় ভূপতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান, ফিরছে মোগাদিশুর স্মৃতি

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মাজিদ সিস্টেম’-এর আঘাতে আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেহরানের এই দুঃসাহসিক অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অহং কার্যত ধুলোয় মিশে গেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম শত্রুপক্ষের সরাসরি হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। তেহরানের আকাশে একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যাওয়া ব্ল্যাক হক কপ্টারগুলোকেও পিছু হটতে হয়েছে।

আমেরিকার এই বিপর্যয় ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার ‘ব্যাটেল অফ মোগাদিশু’র রক্তক্ষয়ী স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সে সময় মহম্মদ ফারাহ আদিদের যোদ্ধারা মার্কিন ডেল্টা ফোর্স ও রেঞ্জার রেজিমেন্টের দম্ভ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। রকেট লঞ্চারের আঘাতে দুটি ইউএইচ ব্ল্যাক হক কপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চিরকালীন দাবিকে পুনরায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বর্তমানে বিধ্বস্ত বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করা মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের জোরালো প্রতিরোধের মুখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন মার্কিন যোদ্ধারাও কার্যত দিশেহারা। একটি কপ্টার ভেঙে পড়ার গুঞ্জন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটনের সামরিক ইতিহাসে মোগাদিশুর পর ইরান এখন নতুন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে, যেখানে আধুনিক সমরাস্ত্রের লড়াইয়ে খোদ আমেরিকাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *