ট্রাম্পের দাবি ওড়ালো ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে দাউদাউ যুদ্ধের মাঝেই চরম উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শান্তি ফেরার বদলে জটিলতা আরও বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে সেই দাবিকে সরাসরি ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দিল তেহরান। এই টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্পকে ফোন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
শান্তি না কি নতুন রণকৌশল?
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বিশদ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সেনার সহায়তায় যে সাফল্য মিলেছে, তাকে কাজে লাগিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, এমন কোনো চুক্তি হতে হবে যা ইজরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করবে। কিন্তু আলোচনার আবহ থাকলেও হামলা থামায়নি তেল আভিভ। ইরান ও লেবাননে লাগাতার মিসাইল হামলা এবং পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা অব্যাহত রেখেছে ইজরায়েল। এমনকি হিজবুল্লাহর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের দুই পরমাণু বিজ্ঞানীকে খতম করার দাবিও করেছেন নেতানিয়াহু।
ট্রাম্পের টুইট বনাম ইরানের পাল্টা তোপ
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে কারণ আলোচনা চলছে। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ না খোলে তবে চরম পরিণতি হবে।
ঠিক এর বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে সাফ জানান, আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তেল বাজার ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রভাবিত করতেই এই ধরণের ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানো হচ্ছে। ইজরায়েল ও আমেরিকা নিজেদের বিপদ থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কার দাবি সত্যি? ট্রাম্পের মধ্যস্থতা কি কাজ করবে না কি ইজরায়েলের হামলায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।