ট্রাম্পের ধ্বংসলীলা রুখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মানব ঢাল গড়ছে ইরানের তরুণ সমাজ

ট্রাম্পের ধ্বংসলীলা রুখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মানব ঢাল গড়ছে ইরানের তরুণ সমাজ

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার সম্ভাব্য হামলা থেকে দেশের পরিকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো রক্ষা করতে এবার ‘মানব শৃঙ্খল’ বা হিউম্যান চেইন গড়ার ডাক দিল তেহরান। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টের মধ্যে দাবি না মানলে ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভয়াবহ হুমকির পাল্টা হিসেবে ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রক দেশজুড়ে এক অভিনব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের পরমাণু কেন্দ্র ও প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় অ্যাথলিট, শিল্পী এবং ছাত্রসমাজ মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকেই জমায়েত শুরু করবেন। মূলত যুবকদের উদ্যোগেই এই ‘প্রতীকী’ সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দেওয়া যায়।

ইরানের মন্ত্রী আলিরেজা রহিমি এক ভিডিও বার্তায় জানান, দেশের অগণিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, তরুণ শিল্পী ও বিভিন্ন সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চারপাশে মানব প্রাচীর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানের যুবকদের মানব শৃঙ্খল’। এর মাধ্যমে দেশের মৌলিক পরিকাঠামো রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের দায়বদ্ধতা ও ঐক্যের প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্তই ইরানের হাতে সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে বা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে এক রাতের মধ্যেই পুরো দেশকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এবার তিনি আর পিছু হটবেন না। আমেরিকার এই আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার সামনে নাগরিক প্রতিরোধকেই বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছে ইরান।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আক্রান্ত হলে গোটা ইরান অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। সেই আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও প্রতিরোধের মেজাজ তুঙ্গে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুবকদের এই অংশগ্রহণ কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং এটি দেশের সম্পদ রক্ষায় এক জাতীয় অঙ্গীকার। ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *