ট্রাম্পের ‘নরক’ হুঁশিয়ারির মাঝেই আসরে জয়শঙ্কর! ইরান ও আরব দেশগুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক ভারতের

ট্রাম্পের ‘নরক’ হুঁশিয়ারির মাঝেই আসরে জয়শঙ্কর! ইরান ও আরব দেশগুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক ভারতের

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ মেঘের মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলল ভারত। হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইরানকে ‘নরক’ দেখানোর হুমকির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে নেমেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে জরুরি বৈঠক করেন। ট্রাম্পের চরমসীমা শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি ছিল জয়শঙ্কর ও আরাগচির মধ্যে ষষ্ঠ দফার বৈঠক। সামাজিক মাধ্যমে জয়শঙ্কর জানান, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর ফোন কল এসেছিল এবং বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেছে। এই উত্তপ্ত আবহে শুধুমাত্র ইরান নয়, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেছেন জয়শঙ্কর।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় আছে হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং ভাষাগত ভঙ্গি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইলেও পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই সংঘাত প্রশমনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

ভারতের কাছে এই সংকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ পশ্চিম এশিয়ায় লক্ষ লক্ষ প্রবাসী ভারতীয় বসবাস করেন এবং দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ এখান থেকেই মেটানো হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত সফলভাবে তার আটটি বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষিতভাবে হরমোজ প্রণালী দিয়ে পার করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ভারত, চিন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলির জাহাজের ক্ষেত্রেই ইরান বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ বিশ্বের দরবারে নয়াদিল্লির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমোজ প্রণালীতে যাতে কোনোভাবেই পণ্য সরবরাহ ব্যাহত না হয় এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি না পায়, সেই লক্ষ্যেই আরব বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে ভারত। ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দিল্লির এই দৌত্য শান্তি ফেরাতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *