ট্রাম্পের নির্দেশে ইসলামাবাদে ভান্স, ইরানের সঙ্গে শনিবারই মুখোমুখি বৈঠকে বসছে আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনে বড় পদক্ষেপ নিলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে চলেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে থাকছেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। মূলত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালীন একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
তবে এই শান্তি আলোচনার আবহে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননের ওপর ইজরায়েলি হামলা। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবানন পরিস্থিতির সঙ্গে এই আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। তার মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি আমেরিকা কখনোই দেয়নি। হাঙ্গেরিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরান যদি বৈঠক ভেস্তে দিতে চায়, তবে সেটি একান্তই তেহরানের সিদ্ধান্ত হবে।
অন্যদিকে, তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইজরায়েলি হামলা এবং যুদ্ধবিরতি একসঙ্গে চলতে পারে না। লেবাননে হিজবুল্লার ওপর হামলা বন্ধ না হলে আলোচনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষিত এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের জন্যই একটি কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে।