ট্রাম্পের নিশানায় বিদেশি ওষুধ, ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে মাথায় হাত ভারতীয় ফার্মা সংস্থাগুলির

ট্রাম্পের নিশানায় বিদেশি ওষুধ, ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে মাথায় হাত ভারতীয় ফার্মা সংস্থাগুলির

বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যে ফের বড়সড় ধামাকা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার জেরে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের নির্দেশ দিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আগ্রাসী বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বিশ্ব বাজারে এক নতুন ‘ট্যারিফ ওয়ার’ বা শুল্ক যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্পের মূল নজর এখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষার দিকে। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও বিদেশি কো ম্পা নি যদি আমেরিকায় তাদের ওষুধ বিক্রি করতে চায়, তবে তাদের ওষুধের দাম কমাতে হবে অথবা উৎপাদন কেন্দ্র আমেরিকাতেই গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে ওষুধ আমদানি করতে গেলেই গুণতে হবে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া শুল্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কৌশলী চাল বিদেশি কো ম্পা নিগুলিকে চরম বিপাকে ফেলেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ রপ্তানি করে আসছিল, তাদের সামনে এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারতের জন্য এই খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, বিশ্বের বৃহত্তম জেনাসিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ওষুধ আমেরিকায় রপ্তানি করে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ভারতের ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছিল। এবার ওষুধের ওপর এই বিশাল ট্যারিফ ভারতীয় ফার্মা কো ম্পা নিগুলোর ব্যবসায়িক পরিকাঠামোয় বড় আঘাত হানবে। এর ফলে ভারতের ওষুধ রপ্তানি যেমন কমবে, তেমনই বিশ্ব বাজারে ভারতীয় ওষুধের আধিপত্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে থাকা বড় বড় ফার্মা জায়ান্টরা ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতবাক। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমেরিকার বাজার পেতে হলে সেই পণ্য আমেরিকাতেই তৈরি করতে হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় ট্রাম্প এখন বাণিজ্যের অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে জোগান কমে গিয়ে খোদ আমেরিকাতেও ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ নাগরিকদের ওপর।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজার এমনিতেই অস্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় এবং গ্যাস প্রকল্পে হামলার কারণে বিশ্ব এক গভীর শক্তি সংকটের মুখে। এর মধ্যে ট্রাম্পের এই কঠোর বাণিজ্যিক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও টালমাটাল করে তুলেছে। ভারতের মতো দেশগুলো এখন এই শুল্কের বোঝা সামলে কীভাবে মার্কিন বাজারে নিজেদের জায়গা ধরে রাখে, সেটাই বড় প্রশ্ন। মোটের ওপর, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে এক অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *