ট্রাম্পের ভুলে ধ্বংসের মুখে আমেরিকা? বাড়ছে ডিপ্রেশন ও আত্মহত্যার হার

ট্রাম্পের ভুলে ধ্বংসের মুখে আমেরিকা? বাড়ছে ডিপ্রেশন ও আত্মহত্যার হার

আমেরিকা আজ এক ভয়াবহ মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। তবে এই বিপর্যয় হঠাৎ আসেনি, বরং বছরের পর বছর নীতিগত অবহেলা এবং ক্ষমতার দম্ভের পরিণাম এটি। এই ব্যর্থতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আমলের নীতিগুলো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বদলে মুনাফাখোরি বাজারে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসার নামে প্রহসন ও চরম বিপর্যয় কাগজে-কলমে আমেরিকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারের কথা বলা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৬ কোটিতে পৌঁছেছে। কিন্তু এর সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার ঘটনা। এটি কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং নীতিগত ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। ট্রাম্প প্রশাসন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মানবিক সেবার পরিবর্তে খরচ ও মুনাফার তুলাদণ্ড দিয়ে পরিমাপ করেছিল, যেখানে রোগীর কষ্টের চেয়ে বিলিং এবং পরিসংখ্যানই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সেবার বদলে গড়ে তোলা হয়েছে মুনাফার সিন্ডিকেট ট্রাম্পের শাসনামলে বেসরকারিকরণকে যেভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, তা মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে কর্পোরেট লোভের হাতে তুলে দিয়েছে। এর ফলে ভুয়া বিলিং, রেকর্ডে জালিয়াতি এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার জাল বিস্তার লাভ করেছে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলছেন যে, এই সিস্টেম এখন আর নিরাময়ের মাধ্যম নয়, বরং উপার্জনের খেলায় পরিণত হয়েছে। রোগীদের সুস্থ করার বদলে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার চক্রে আটকে রাখাই এই মডেলের আসল উদ্দেশ্য।

স্বাভাবিক জীবনকেও বানানো হয়েছে মানসিক রোগ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, এখন সাধারণ মানসিক চাপ, ব্যর্থতা বা আবেগপ্রবণতাকেও ‘মানসিক রোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও যুবকদের কোনো সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। এটি কেবল চিকিৎসার ত্রুটি নয়, বরং সেই নীতিগত চিন্তাভাবনার ফল যা প্রতিটি সমস্যার সমাধান ওষুধ এবং বিলের মধ্যে খুঁজে পায়। আর এই ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ট্রাম্পের আমলেই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক রূপ নিয়ে সামনে এসেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *