ট্রাম্পের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর নেটো ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের তোপ

ট্রাম্পের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর নেটো ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের তোপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে শুরু করে নেটো জোটের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ম্যাক্রোঁ সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে জানান, ট্রাম্পের এই অসংলগ্ন বয়ান আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গুরুত্ব বোঝাতে তিনি পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিন কথা না বলে বরং দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল কূটনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকার সমালোচনা করতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা নেটো-র প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ তৈরি করে ট্রাম্প এই জোটকে ভেতর থেকে দুর্বল করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত কোনো জোটের কার্যকারিতা নিয়ে যদি প্রতিদিন প্রশ্ন তোলা হয়, তবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে গিয়ে ঠেকে। ট্রাম্পের ‘পেপার টাইগার’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই পালটা জবাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নেটো প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল যে, মার্কিন মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি। এই ক্ষোভ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা এই জোটে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সংকটের সময়ে প্রতিদান পাচ্ছে না। তবে ম্যাক্রোঁ মনে করেন, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার অবস্থানকেই সংকটে ফেলবে এবং মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরাবে।

হরমুজ প্রণালীর জটিলতা নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের নৌবাহিনী ও সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। কিন্তু ম্যাক্রোঁ এই দাবিকে ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে জানান, সামরিক শক্তির জোরে হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ডের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং উপকূলীয় সম্পদ যে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সবশেষে ম্যাক্রোঁ জোর দিয়েছেন কূটনৈতিক সমাধানের ওপর। তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস ও তেল সরবরাহের পথ এই প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে হলে ইরানের সাথে আলোচনা জরুরি। সামরিক সংঘর্ষের বদলে যুদ্ধবিরতি এবং গঠনমূলক সংলাপই একমাত্র পথ। তেহরান সম্প্রতি অ-শত্রু দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *