ট্রাম্পের মাস্টারপ্ল্যান ইমপ্যাক্ট যুদ্ধবিমান খুইয়ে এবার দূরপাল্লার মিসাইলে ইরান দমনের পথে আমেরিকা

ট্রাম্পের মাস্টারপ্ল্যান ইমপ্যাক্ট যুদ্ধবিমান খুইয়ে এবার দূরপাল্লার মিসাইলে ইরান দমনের পথে আমেরিকা

ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় যুদ্ধের কৌশল আমূল বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি বিমান হামলা কমিয়ে এবার নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে নয়া রণকৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের গগনচুম্বী প্রতিরক্ষার সামনে দুটি শক্তিশালী এফ-১৫ই এবং এ-১০ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, ১২টির বেশি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন পাইলটদের প্রাণহানি রুখতে এই কৌশলী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে হামলা চালাতে আমেরিকা এখন জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) নামক অত্যাধুনিক দূরপাল্লার মিসাইলের ওপর ভরসা করছে। প্রায় ৯৬৫ কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এই প্রতিটি মিসাইলের বাজারমূল্য প্রায় ১২.৫ কোটি টাকা। এর ফলে মার্কিন বাহিনীকে সরাসরি ইরানের সীমানায় প্রবেশ করতে হচ্ছে না, যা তাদের আকাশপথের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করছে। তবে এই রণকৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে টান পড়ছে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে। গত চার সপ্তাহে মজুত থাকা ২,৩০০ মিসাইলের মধ্যে ১,০০০-এর বেশি ব্যবহৃত হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান গতিতে অস্ত্র খরচ হতে থাকলে ভবিষ্যতে চিনের মতো শক্তির মোকাবিলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইতিমধ্য়েই ইরানের ১২,৩০০টি লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ, মিসাইল ঘাঁটি এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই আক্রমণ আরও তীব্রতর করা হচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে আকাশপথে সরাসরি সংঘাতের বদলে এখন দূরপাল্লার মিসাইল যুদ্ধই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *