ট্রাম্পের মেজাজ তুঙ্গে, চিনকে ‘৫০ শতাংশ ট্যারিফ’-এর হুঁশিয়ারি!

ট্রাম্পের মেজাজ তুঙ্গে, চিনকে ‘৫০ শতাংশ ট্যারিফ’-এর হুঁশিয়ারি!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর অভিযোগ উঠেছে যে, ইরান চিনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহের তোড়জোড় চালাচ্ছে। এই খবরের প্রেক্ষিতে চিনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চিন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে চিনের পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিক ৫০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করা হবে।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে চিন কর্তৃক ইরানকে অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। যদিও চিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে সংঘাতের মূলে যা আছে

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, চিন সরাসরি নয় বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানের হাতে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই তালিকায় অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সিস্টেম রয়েছে বলে জানা গেছে, যা কাঁধে রেখে অনায়াসেই নিচু দিয়ে ওড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম। ইরান এই প্রযুক্তি হাতে পেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপের কৌশল

ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি চিনকে বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন। ইরান থেকে তেল কেনার বদলে তিনি আমেরিকার কাছ থেকে তেল কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা ইরানের চেয়েও কম দামে তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত। এর আগে চিনের ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ থাকলেও পরে তা কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছিল। বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্থায়ী ট্যারিফ অবৈধ ঘোষিত হলেও অস্থায়ী বাণিজ্য আইনের অধীনে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেছেন ট্রাম্প। এখন নতুন করে ৫০ শতাংশ ট্যারিফের হুমকি চিনের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বর্তমান পরিস্থিতি

মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা প্রবল। সফরের ঠিক আগে এই ধরনের কঠোর মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, এই সংঘাতে চিন কোনো পক্ষকেই অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ার কারণে চিন কৌশলগতভাবে ইরানের পাশে থাকতে চায়, আবার আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের নিরপেক্ষ দেখানোর চেষ্টাও করছে।

একঝলকে

  • ইরান চিনের কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র মজুত করছে বলে অভিযোগ আমেরিকার।
  • অস্ত্র সরবরাহের প্রমাণ পেলে চিনের ওপর ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপানোর হুমকি ট্রাম্পের।
  • ইরানকে অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সিস্টেম দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চিন, দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের।
  • ইরান থেকে তেল না কিনে আমেরিকার কাছ থেকে কম দামে তেল কেনার প্রস্তাব চিনের প্রতি।
  • মে মাসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
  • চিনের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ থাকার দাবি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *