ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, এবার আমেরিকাকে পাল্টা কড়া বার্তা দিল চীন

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে এবার সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করল চীন। ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং। চীনের মতে, এ ধরনের হামলা কেবল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে না বরং পেশ পেশিশক্তির আস্ফালনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার যে চরম হুমকি দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতেই বেইজিংয়ের এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চীন জানিয়েছে, উসকানিমূলক বাগাড়ম্বর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। উল্লেখ্য, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানের উৎপাদিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বেইজিং ক্রয় করে থাকে। ফলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চীনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত অস্থিরতা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানের বেসামরিক ও পরিকাঠামোগত কাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে মার্কিন হুমকির মুখে নিজেদের সুরক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকির কলিবাফ দাবি করেছেন, যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় প্রায় ৭০ লক্ষ ইরানি নাগরিক অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশজুড়ে এক বিশাল জনমত গড়ে উঠেছে, যেখানে নাগরিকরা মাতৃভূমি রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের এই অনড় মনোভাব এবং চীনের প্রকাশ্য সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার ওপর। চীন মনে করে, পেশিশক্তির আস্ফালন কোনো সমস্যার সমাধান না করে বরং পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং।