ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে তেহরান, না থামালে ধ্বংস হবে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো

ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ও পশ্চিমী শহর কারাজের সংযোগকারী একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করার ঠিক পরেই ওয়াশিংটন থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ১৩৬ মিটার উঁচু ওই সেতুটি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সমস্ত প্রধান পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানে যা অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করা এখনও শুরুই করেনি মার্কিন সেনাবাহিনী। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন, অন্যথায় ইরানকে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এবং দেশটির পতন ত্বরান্বিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, একটি সেতু ধ্বংস হওয়া কেবল শুরু মাত্র; ইরান সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তী আঘাত আসবে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে আমেরিকার হাতে এবং তারা যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইরানকে দ্রুত একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা সেতুটি ধ্বংসের ভিডিওটি ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা তাঁর কঠোর মনোভাবের প্রমাণ দেয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের নতুন সরকারের সামনে সময় খুব সংক্ষিপ্ত। একটি গঠনমূলক সমঝোতায় না পৌঁছালে দেশটিকে সর্বনাশের পথে যেতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক মনোবলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল।
সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন এক সংকটজনক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। আমেরিকার এই আগ্রাসী মেজাজ এবং ইরানের কৌশলগত পরিকাঠামোয় একের পর এক আঘাতের ফলে সংঘাত বড় আকার ধারণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই চরম আলটিমেটামের পর তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে নাকি পরিস্থিতি এক ভয়াবহ সামরিক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।