ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই হরমোজ প্রণালী নিয়ে ৩৫ দেশকে একজোট করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে এক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। চলতি সপ্তাহেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে ৩৫টি দেশ অংশ নেবে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতেই ব্রিটেন এই উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রিটেন ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। স্টারমার জানিয়েছেন, সম্মেলনে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিপজ্জনক এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে যখন বিশ্বনেতারা চিন্তিত, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত মন্তব্য করে মিত্র দেশগুলোকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালী নিরাপদ রাখার দায়ভার আমেরিকার নয়। তাঁর মতে, যেসব দেশ এই রুট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা পায়, দায়িত্বটি তাদেরই নেওয়া উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সহযোগিতার অনীহা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপে রয়েছে হোয়াইট হাউস।
অন্যদিকে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সামরিক সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান শহরের একটি পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে তেহরান দুবাই উপকূলে একটি কুয়েতি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রয়োজনে সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও ভাবছে ব্রিটেন এবং তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো।