ট্রাম্পের হুংকারে কাঁপছে বাজার উত্তপ্ত, ইরান পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাধস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের ঘোষণা এবং ইরান নিয়ে কঠোর বার্তায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ১৯ মিনিটের এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন এবং তাদের শীর্ষ নেতারা মৃত। এই সামরিক পদক্ষেপকে তিনি আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ‘অপরিহার্য বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে এবং এশীয় শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
ট্রাম্পের ভাষণের সময় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথটি কার্যত অচল। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধ থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় তেলের সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
এশীয় শেয়ার বাজারেও এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ১.৫ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ২.৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ শতাংশ পড়ে গেছে। ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চলের বাজারে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন, যার ফলে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের উপদেষ্টা মেলিসা টুফেনিয়ান জানান, এই ভাষণের পর মার্কিন নাগরিকরা আরও বেশি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট কিছু জানাননি। অন্যদিকে, ন্যাটোতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইভো ডাল্ডার প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের সব সামরিক সক্ষমতা যদি ধ্বংসই হয়ে থাকে, তবে কেন আমেরিকা এখনো দেশটিতে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ বিশ্বজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা তার অভিযানে ইসরায়েল, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো মিত্রদের সহযোগিতা নিশ্চিত করলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব কমার কোনো লক্ষণ নেই। ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ‘হত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকাতে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।