ট্রাম্পের হুঙ্কারে বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি, রুপো ১৩ হাজার ও সোনা ২২০০ টাকা সস্তা
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ওলটপালট শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর দামে। ভারতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; আজ এমসিএক্স (MCX) মার্কেটে সোনা ও রুপোর দামে রেকর্ড পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বাজার সূত্রে খবর, ট্রাম্প জানিয়েছেন আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ইস্যুতে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে তেলের রুট নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে লগ্নিকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন, যার জেরে মার্কিন ডলার ইনডেক্স ১০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপোর চাহিদা কমে দাম পড়তে শুরু করেছে।
ভারতীয় বাজারে ৫ মে-র সিলভার ফিউচারের দাম এক ধাক্কায় কেজিতে ১৩,০০০ টাকা কমেছে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,২৯,৮৮৮ টাকা। অন্যদিকে সোনার দামেও বড়সড় ধস নেমেছে। প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ২,২০০ টাকা কমে ১৫১,১৬১ টাকায় ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনা ২.১৫ শতাংশ এবং রুপো ৫.২০ শতাংশ সস্তা হয়েছে।
ধাতব বাজারের পাশাপাশি শেয়ার বাজারেও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১৪৪৬ পয়েন্ট পড়ে ৭১,৭১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। নিফটিও ৪৩৮ পয়েন্ট নেমে ২২,২৩৩ স্তরে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ৮ ডলার বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে টাকার দাম ডলারের তুলনায় ৯৪ টাকায় নেমে এসেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে সোনা ও রুপোর দাম নির্ধারিত হবে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ধাতু বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আপাতত সস্তা হওয়ার সুযোগে অনেক সাধারণ ক্রেতা বাজারে ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদী লগ্নিকারীরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।