ট্রাম্পের হুমকিতে অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ববাজারে, হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম

ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান নিজেদের হাতে রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে জলপথ খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। এই চরম উত্তেজনার আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা রবিবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সোমবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই (WTI) অয়েল ফিউচার্সের দামও ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। লন্ডন গ্যাস অয়েল ফিউচার্সের দামও ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। ইরান অবশ্য সাফ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই জলপথ খোলা হবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলেও ভারতীয় বাজারের জন্য আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ভারতীয় গ্রাহকদের পকেটে এখনই খুব বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া অবস্থান এবং ইরানের অনড় মনোভাবের ফলে আগামী দিনে জ্বালানির বাজার কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।