ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ল, অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়াল

ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ল, অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়াল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দরে। রবিবার বাজার খোলার পর দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১১০.৬০ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ক্রুড ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধির সাথে ১১৩.৬০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার ইরানি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে জলপথটি উন্মুক্ত না করে, তবে তাদের কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২১ মার্চ তিনি ইরানকে যে সময়সীমা দিয়েছিলেন, তা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।

পাল্টা জবাবে ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক রবিবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে দেশটির যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী কোনোভাবেই পুনরায় খোলা হবে না। ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান ইতিমধ্যেই ইরানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। ওমানের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তারা তেহরানের সাথে ইতিবাচক আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে তেলের যোগানে এই অস্থিরতার প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এএএ (AAA) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে খুচরো স্তরে গ্যাসের গড় দাম ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রবিবার এক গ্যালন গ্যাসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.১১ ডলার। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান পড়ায় গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের এই জলপথের প্রয়োজন নেই, তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং আকাশছোঁয়া দাম সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর এর প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *