‘ট্রাম্প প্রণালী’: আন্তর্জাতিক জলপথের নামবদল কি আদৌ সম্ভব?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে হাসির রোল উঠেছে, ট্রাম্পের দাবি—তার অভিধানে ‘ভুল’ বলে কিছু নেই। তবে আইনি বাস্তবতায় কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক জলপথের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ভৌগোলিক ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মতো জলপথগুলো রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (UNCLOS) এবং বৈশ্বিক ঐকমত্য দ্বারা পরিচালিত হয়। এই নামগুলো আন্তর্জাতিক মানচিত্র ও নৌ-চলাচল ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কোনো রাজনৈতিক ফরমানে পরিবর্তনযোগ্য নয়। ফলে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’র কোনো অস্তিত্ব নেই। তবুও বিশ্ব বাণিজ্যের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথ নিয়ে এমন মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই স্বকীয় শৈলী মূলত বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণ জাহির করার একটি কৌশল। আন্তর্জাতিকভাবে এটি অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও, অভ্যন্তরীণভাবে তার শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রতীকী ভাষা বাস্তব নীতি নির্ধারণ না করলেও বাজার প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক উত্তজনা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করে। আপাতত এটি নিছক রাজনৈতিক নাটক হিসেবে গণ্য হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম।