ট্রাম্প প্রশাসনে বড়সড় রদবদল, প্রতি ৩০ দিনে পদ হারাচ্ছেন মার্কিন সেনার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা

ট্রাম্প প্রশাসনে বড়সড় রদবদল, প্রতি ৩০ দিনে পদ হারাচ্ছেন মার্কিন সেনার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসনে নজিরবিহীন ডামাডোল শুরু হয়েছে। ‘দ্য আটলান্টিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে প্রতি ৩০ দিনে একজন করে শীর্ষ সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল থেকে শুরু করে আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল পর্যন্ত তালিকায় থাকা অনেক হেভিওয়েট কর্মকর্তাকেই অপসারিত হতে হতে পারে। ইতিপূর্বে পাম বন্ডি এবং ক্রিস্টি নোয়েমের মতো কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকারের অন্দরে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিভাগেও শুদ্ধি অভিযান তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সেনার চিফ অফ স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস সি কিউ ব্রাউন জুনিয়র এবং নেভি অপারেশনস প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঞ্চেটিসহ প্রায় ১২ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফ্রি ক্রুজকেও ‘আস্থার অভাব’-এর কারণ দেখিয়ে বিদায় করা হয়েছে।

প্রশাসনের এই আগ্রাসী কৌশলের নেপথ্যে রয়েছে ‘ডাইভারসিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ বা ডিইআই (DEI) নীতির বিরোধিতা। প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের মতে, সেনাবাহিনীতে শুধুমাত্র পূর্ণ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদেরই স্থান হওয়া উচিত এবং তথাকথিত ‘ভোক’ আদর্শের কোনো জায়গা নেই। ট্রাম্প সরকার একে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব টিম তৈরির অধিকার হিসেবে দাবি করলেও, বিরোধী শিবির জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে। সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘন ঘন রদবদল মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *