ট্রেন ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগেও বদলানো যাবে বোর্ডিং স্টেশন রেলের বড় ঘোষণা

ট্রেন ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগেও বদলানো যাবে বোর্ডিং স্টেশন রেলের বড় ঘোষণা

ভারতীয় রেলের দক্ষিণ শাখার পক্ষ থেকে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে যাত্রী সুবিধার্থে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে বা দ্বিতীয় রিজার্ভেশন চার্ট তৈরির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যাত্রীরা তাঁদের বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন। রেলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলা এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার জটিলতা থেকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া।

আগে রেলের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে বা রিজার্ভেশন চার্ট প্রস্তুত হওয়ার আগেই অনলাইন মাধ্যমে বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তনের আবেদন করতে হতো। সময়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় বৈধ কারণ থাকা সত্ত্বেও যাত্রীরা স্টেশনের অবস্থান পরিবর্তনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। তবে আধুনিকীকরণের পথে হেঁটে এখন আইআরসিটিসি (IRCTC) পোর্টালের পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম (PRS) কাউন্টারের মাধ্যমেও এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।

এই নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই সমস্ত যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন, যারা আগে এক স্টেশন থেকে টিকিট বুক করলেও পরবর্তীতে অন্য কোনো সুবিধাজনক স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে চান। হঠাৎ যাত্রার পরিকল্পনা পরিবর্তন বা যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে এই নিয়ম যাত্রীদের সিট বা বার্থ হারানোর ভয় থেকে নিশ্চিন্ত করবে। মূলত সফরের শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা দূর করতেই রেল কর্তৃপক্ষ এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তবে এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি রয়েছে। এই পরিষেবাটি কেবলমাত্র কনফার্ম (Confirmed) এবং আরএসি (RAC) টিকিটধারী যাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না। একজন যাত্রী তাঁর যাত্রাপথে মাত্র একবারই বোর্ডিং পয়েন্ট পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন এবং এই আবেদনটি অবশ্যই দ্বিতীয় চার্ট প্রস্তুতির আগে সম্পন্ন করতে হবে।

বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তন করতে চাইলে যাত্রীরা আইআরসিটিসি ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে ‘বুকিং হিস্ট্রি’ থেকে ‘চেঞ্জ বোর্ডিং পয়েন্ট’ বিকল্পটি নির্বাচন করতে পারেন। এছাড়া নিকটস্থ পিআরএস কাউন্টারে বৈধ পরিচয়পত্র এবং টিকিট দেখিয়েও এই কাজ করা সম্ভব। একবার বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তন হয়ে গেলে যাত্রী আর পুরনো স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে পারবেন না। যদি কেউ পুরনো স্টেশন থেকেই যাত্রা শুরু করেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে নির্দিষ্ট জরিমানা এবং অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান করতে হবে।

রেলের এই ডিজিটাল ও পরিকাঠামোগত সংস্কার সাধারণ মানুষের রেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ রেলওয়ের এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর সারা দেশের রেলযাত্রীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন থেকে দূরপাল্লার যাত্রায় স্টেশনে পৌঁছানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীরা পরিস্থিতির প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *