ডলোমাইট বিপর্যয় ও নদী ভাঙনে জেরবার কালচিনি কাঠগড়ায় বিধায়কের উন্নয়ন

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুটান থেকে নেমে আসা নদী ও পাহাড়ি ঝোরার ভাঙন জনজীবনে চরম সংকট তৈরি করেছে। প্রতি বছর বাসরা, পানা ও তোর্সা নদীর প্লাবনে ভেসে আসা ডলোমাইট মিশ্রিত জলে কৃষিজমি, চা বাগান ও বনাঞ্চল অনুর্বর হয়ে পড়ছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠনের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও, তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিগত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামা পথবাতি, স্কুল প্রাচীর ও পানীয় জলের প্রকল্পের খতিয়ান দিলেও বিরোধীরা তাঁকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন। বিশেষ করে জয়গাঁ সংলগ্ন এলাকায় বসতবাড়িতে ডলোমাইট ঢুকে পড়ার সমস্যায় বিধায়কের কোনো ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের।
চা ও পর্যটন নির্ভর কালচিনির অর্থনীতিতে মন্দা কাটানোর পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়দের দাবি, ডলোমাইট সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যা নিয়ে বিধায়ক উদাসীন। অন্যদিকে, বিধায়কের পালটা দাবি, তিনি সাধ্যমতো পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন এবং নদী কমিশনের বিষয়টি বৈদেশিক ও রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। কালচিনির ভবিষ্যৎ এখন এই অমীমাংসিত জলকষ্ট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জালে বন্দি।