ডায়রিয়া নাকি বিষাক্ত জল! অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যুমিছিলের আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা দেশ

ডায়রিয়া নাকি বিষাক্ত জল! অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যুমিছিলের আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা দেশ

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর মড়ক। জ্বর, অবিরত বমি আর পেট খারাপে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্য এক আক্রান্ত বর্তমানে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। রাজ্যজুড়ে ডায়রিয়ার এই ব্যাপক প্রাদুর্ভাবে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তটস্থ প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে জিইএমএস হাসপাতালে ৭৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংক্রমণ রুখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাইপের জল সরবরাহ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প পানীয় জলের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।

আক্রান্তের তালিকায় শিশু ও বৃদ্ধরা

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। মূলত বিষাক্ত পানীয় জল বা দূষিত খাবার থেকেই এই মারণ সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। পেটে যন্ত্রণা, ডিহাইড্রেশন বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

দেশজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে জল-সংকট

অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। গত কয়েক মাসে দেশের একাধিক রাজ্যে পানীয় জল থেকে বিষক্রিয়ার খবর সামনে এসেছে।

  • ইন্দোর: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিষাক্ত জল পানে এ পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে (সরকারি মতে ২১)। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রায় ৯ হাজার মানুষ।
  • গুজরাট: গান্ধীনগরেও দূষিত জলের কারণে শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে খোদ উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভিকে হাসপাতালে দৌড়াতে হয়েছে।

পরপর এই ঘটনাগুলো ভারতের জনস্বাস্থ্য ও পানীয় জলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। আপাতত শ্রীকাকুলামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *