ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ফের কি থমকে যেতে পারে মহার্ঘ ভাতা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে। সাধারণত হোলির সময় এই ঘোষণা হওয়ার রীতি থাকলেও চলতি বছরে এপ্রিল মাস শুরু হওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এই অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে কর্মীদের মধ্যে দানা বাঁধছে আশঙ্কা। অনেকেই মনে করছেন, করোনা মহামারীর সময়কার মতো এবারও কি তবে ডিএ বৃদ্ধি স্থগিত রাখার পথে হাঁটবে কেন্দ্র? যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নেতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
স্মর্তব্য যে, ২০২০-২১ সালে অতিমারীজনিত অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে টানা ১৮ মাসের মহার্ঘ ভাতা স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তার প্রভাবে ভারতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপের কথা ভেবেই মূলত কর্মীদের মনে আশঙ্কার সঞ্চার হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া এবং অষ্টম বেতন কমিশন চালুর প্রক্রিয়াজনিত কারণেই হয়তো এই প্রশাসনিক বিলম্ব ঘটছে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের প্রথমার্ধের জন্য আরও ২ থেকে ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বর্ধিত ডিএ-র হার ৬০ বা ৬১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। মার্চে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এখন এপ্রিল মাসে ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন কয়েক লক্ষ কর্মচারী। এপ্রিলে ঘোষণা হলে নিয়ম অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের বকেয়া বা এরিয়ার এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই যুক্ত হওয়ার কথা। আপাতত কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছেন সরকারি কর্মীরা।