ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ১.৮৬ কোটির লুট, ৬ রাজ্যে সিবিআইয়ের ঝটিকা অভিযানে শ্রীঘরে পান্ডারা

ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ১.৮৬ কোটির লুট, ৬ রাজ্যে সিবিআইয়ের ঝটিকা অভিযানে শ্রীঘরে পান্ডারা

নিউজ ডেস্ক

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল সিবিআই। কেরলের এক প্রবীণ ব্যক্তির থেকে ১.৮৬ কোটি টাকা লুটের তদন্তে নেমে দিল্লি, গোয়া, মহারাষ্ট্রসহ দেশের ৬টি রাজ্যে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মেগা অপারেশনে গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের তিন মূল পাণ্ডাকে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর জালিয়াতির চিত্র। এই চক্রটি মূলত দুটি উপায়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করত:

  • ভুয়ো সিম ও ৫জি কেওয়াইসি জালিয়াতি: ৫জি আপগ্রেড করার নাম করে সাধারণ মানুষের থেকে কেওয়াইসি নথি সংগ্রহ করে ভুয়ো সিম কার্ড তোলা হতো। সেই নম্বর থেকেই চলত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি ফোন।
  • মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: হাতিয়ে নেওয়া টাকা দ্রুত পাচারের জন্য অন্যের নামে খোলা বা ভাড়ায় নেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। পরে সেই টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা শেল কো ম্পা নির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো।

ধৃতদের পরিচয় ও ভূমিকা

১. ব্লেসিন জ্যাকব আব্রাহাম (গোয়া): হোটেল থেকে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তি মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখাশোনা করত।

২. মহম্মদ মুশতাক (নাগপুর): নিজের শেল কো ম্পা নির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লুটের টাকা জমা করাত এই অভিযুক্ত।

৩. মহম্মদ জুনায়েদ (বেঙ্গালুরু): ৫জি আপগ্রেডের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের নথি চুরি করে ভুয়ো সিম কার্ড জোগাড় করার দায়িত্বে ছিল সে।

সিবিআই আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস, ডেবিট কার্ড এবং সন্দেহজনক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে সিবিআই জানিয়েছে, কোনও সরকারি সংস্থা ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে না। এই ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *