ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যক্তিগত জীবন, জনপ্রিয় ইউটিউবারদের ঘিরে দানা বাঁধছে বিতর্ক

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যক্তিগত জীবন আর চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ এবং জনপ্রিয়তার নেশায় দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরতে গিয়ে প্রায়শই কড়া সমালোচনার মুখে পড়ছেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা। সম্প্রতি ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ খ্যাত মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায় শাশুড়ির মৃত্যু নিয়ে ভিডিও বানিয়ে তীব্র ট্রোলের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে শ্মশানের চুল্লির সঙ্গে কেক বেকিংয়ের তুলনা টেনে আনা নেটিজেনদের একাংশ মেনে নিতে পারেননি।

বিতর্কের এই তালিকায় নাম রয়েছে সায়ক চক্রবর্তী ও গায়িকা দেবলীনা নন্দীরও। সায়ক পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তোরাঁয় গোমাংস কাণ্ড নিয়ে লাইভ ভিডিও করে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন। অন্যদিকে, দেবলীনা নন্দী দাম্পত্য কলহ নিয়ে লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। এছাড়াও যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেল হেফাজতে থাকা শমীক অধিকারী কিংবা বেবিবাম্পে জগন্নাথের ছবি এঁকে বিতর্কে জড়ানো সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘটনাগুলি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত শোক বা সংবেদনশীল মুহূর্তকে কনটেন্টে রূপান্তর করার এই প্রবণতা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে জনসমক্ষে আনা অনেক ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হচ্ছে। ফলে ইনফ্লুয়েন্সাররা যেমন অনুগামীদের রোষানলে পড়ছেন, তেমনই সাইবার দুনিয়ায় তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তৈরি হচ্ছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *