ডিমের খোসায় এবার মেয়াদের তারিখ? উত্তরপ্রদেশের পথেই কি হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গ

ডিমের খোসায় এবার মেয়াদের তারিখ? উত্তরপ্রদেশের পথেই কি হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গ

উত্তরপ্রদেশে ডিমের খোসায় ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদের তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করার পর পশ্চিমবঙ্গতেও এই নিয়ম চালুর সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে সাধারণ ডিমের ওপর কোনো তারিখ না থাকলেও, বিভিন্ন সংস্থার ‘ভ্যালু অ্যাডেড’ ডিমের প্যাকেটে ব্যবহারের সময়সীমা উল্লেখ করা থাকে। রাজ্য পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করলে বাংলাতেও তা কার্যকর হতে পারে, যা গ্রাহকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মদন মাইতি জানান, প্রতিটি ডিমের গায়ে তারিখ ছাপানোর মেশিন বসাতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। এর ফলে ডিম প্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারিদের পক্ষে এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ এবং বাড়তি খরচ বহন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ডিম উৎপাদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে সেটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ফ্রিজে রাখলে এই মেয়াদ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, সাধারণ তাপমাত্রায় পনেরো দিন পার হলে পুষ্টিগুণ ও মান উভয়ই হ্রাস পায়। বর্তমানে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পোল্ট্রি সংস্থাগুলো গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ডিম ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার জনস্বার্থ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *