ডুয়ার্সের এই গোপন স্বর্গে মেঘেদের লুকোচুরি পাহাড়ের বাঁকে ১২ নদীর মিতালি আর বৌদ্ধ গুম্ফার মায়াবী হাতছানি

ডুয়ার্সের এই গোপন স্বর্গে মেঘেদের লুকোচুরি পাহাড়ের বাঁকে ১২ নদীর মিতালি আর বৌদ্ধ গুম্ফার মায়াবী হাতছানি

উত্তরবঙ্গের ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে ডুয়ার্সের ঘন অরণ্য আর পাহাড়ের মিতালিতে ঠাঁই পেয়েছে এক টুকরো স্বর্গ যার নাম লেপচাখা। বক্সা টাইগার রিজার্ভের অন্তর্গত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। এখান থেকে ভুটান পাহাড় এবং ডুয়ার্সের সমতলভূমির অপূর্ব প্যানোরামিক দৃশ্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন ভালো করে দিতে বাধ্য।

কেন যাবেন লেপচাখায়

লেপচাখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অসীম নির্জনতা এবং দিগন্তবিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখান থেকে ১২টি নদীর মোহনা দেখা যায় বলে একে অনেক সময় বারো নদীর দেশ বা বক্সার প্রবেশদ্বারও বলা হয়। এখানকার স্থানীয় দ্রুকপা জনজাতির জীবনযাপন অত্যন্ত সহজ ও সরল। পাহাড়ের গায়ে তাদের তৈরি ছোট ছোট কাঠের ঘর এবং চারদিকের রঙিন বৌদ্ধ প্রার্থনা পতাকায় ঘেরা গ্রামটি আপনাকে এক মায়াবী জগতের অনুভূতি দেবে।

প্রধান আকর্ষণ ও দর্শনীয় স্থান

লেপচাখা ভিউ পয়েন্ট থেকে শান্ত ভুটান পাহাড় এবং গভীর অরণ্যের অপরূপ রূপ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশ লাল আভা ধারণ করে তখন সেই দৃশ্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করে। এছাড়া গ্রামের এক প্রান্তে অবস্থিত শান্ত বৌদ্ধ গুম্ফা বা মনেস্ট্রি এই জনপদের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে।

ট্রেকিংয়ের রোমাঞ্চ

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য লেপচাখা এক আদর্শ গন্তব্য। এখানে পৌঁছাতে হলে বক্সাদুয়ার থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার পাহাড়ি চড়াই পথ ট্রেক করতে হয়। যাত্রাপথের দুধারে ফুটে থাকা অর্কিড, ফার্ন আর পাহাড়ি পাখির কলতান পুরো ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করে তোলে। ফোন এবং কাজের জগত থেকে দূরে হিমালয়ের কোলে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এটি সেরা রিফ্রেশমেন্ট জোন হতে পারে।

যাতায়াত ব্যবস্থা

শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ট্রেন অথবা বাসে করে প্রথমে আলিপুরদুয়ার বা জয়গাঁ পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে রাজাবাতখাওয়া হয়ে যেতে হবে সান্তালাবাড়ি। এখান থেকেই মূল ট্রেকিং শুরু হয়। প্রথমে বক্সাদুয়ার এবং সেখান থেকে কিছুটা চড়াই পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় স্বপ্নের জনপদ লেপচাখায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *