তাজপুরে সমুদ্রে নেমে নিখোঁজ সোদপুরের চিকিৎসক, দম্পতির দেহ উদ্ধার

পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর সমুদ্র সৈকতে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বুধবার রাতে সোদপুরের বাসিন্দা এক চিকিৎসক দম্পতির নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পর্যটন কেন্দ্রে। মৃতদের নাম কুন্তল চক্রবর্তী এবং শৈলজা ভরদ্বাজ। উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা এলাকার বাসিন্দা এই দম্পতি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিন আগে তাজপুরে ভ্রমণে এসেছিলেন এই দম্পতি। বুধবার রাতে বিশ্ববাংলা উদ্যানের কাছে সমুদ্রের জলে দু’টি দেহ ভাসতে দেখেন পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবুরিদের সহায়তায় দেহ দু’টি উদ্ধার করে। এরপর তাঁদের বালিসাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রাতে সমুদ্রের পাড়ে থাকাকালীন উচ্চ জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঢেউয়ের তোড়ে তাঁরা তলিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৃত এই চিকিৎসক দম্পতি জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের পরিচিত মুখ ছিলেন। অভয়া আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চিকিৎসক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তালসারিতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাজপুরের এই ঘটনা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পর্যটকদের অসাবধানতা অনেক ক্ষেত্রেই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাজপুরের পাশাপাশি দিঘার ক্ষণিকা ঘাটেও এদিন স্নান করতে নেমে দু’জন তলিয়ে গেলেও নুলিয়ারা তাঁদের জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।