তারেক জমানায় বরফ গলছে? দিল্লিতে হাত মেলালেন জয়শঙ্কর-খলিলুর, বাংলাদেশের ঝুড়িতে কী এল?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমানে নয়া দিল্লি সফর করছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষিতে গুরুত্ব
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের কাছে বাড়তি জ্বালানি তেল ও সার সরবরাহের জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ডিজেল ও সারের যোগান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বানিজ্যিক বাধা দূর ও বিনিয়োগের দাবি
আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ চায় ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাপক বিনিয়োগ। বিশেষ করে বিগত সরকারের পতনের পর যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় বন্দরে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ‘বস্ত্র’ বা টেক্সটাইল সামগ্রীর ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও ট্রানজিট পুনরারম্ভ
বৈঠকে জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু করার বিষয়টি আরও সহজ করা হবে। সম্পর্কের উন্নয়নের ইঙ্গিত হিসেবে ইতিমধ্যে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস পরিষেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফার্স্ট ও নতুন বিদেশনীতি
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে এগোচ্ছে। এই নীতির মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং দুই দেশের সমান সুবিধা নিশ্চিত করা। এছাড়া ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদের গ্রেফতারে ভারতের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রত্যর্পণ চুক্তি ও অমীমাংসিত ইস্যু
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনরায় উত্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধীদের হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হলেও, ভারতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি সরাসরি বা কোনো প্রতিবেশী দেশ হয়ে ভারতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে আসতে পারেন। ২০২৪ সালের অগাস্টের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
একঝলকে
- জ্বালানি সংকট মেটাতে ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল ও সার চেয়েছে বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস।
- বাংলাদেশের বস্ত্রপণ্যের ওপর থেকে ভারতীয় শুল্ক প্রত্যাহারের জোরালো দাবি।
- স্থগিত হওয়া ভারতীয় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
- ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভারসাম্য আনার চেষ্টা।
- প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতি ও রূপরেখা নিয়ে আলোচনা।