তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা: একঝাঁক নতুন মুখ আর নানামুখী ব্যতিক্রম নিয়ে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা: একঝাঁক নতুন মুখ আর নানামুখী ব্যতিক্রম নিয়ে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১২ই মার্চ বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত এই সংসদ নানা কারণেই ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এক নজরে নতুন সংসদের কাঠামো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংবিধান অনুযায়ী, এই সংসদের মেয়াদ থাকবে ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত।

কেন এই সংসদ ব্যতিক্রমী?

বিশ্লেষক ও সংসদ গবেষকদের মতে, এবারের সংসদ বেশ কিছু কারণে পূর্ববর্তী সংসদগুলোর চেয়ে আলাদা:

  • নতুন মুখের আধিক্য: নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২২৭ জনই এবার প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন, যা সংসদীয় কার্যপ্রণালী বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
  • স্পিকারহীন উদ্বোধনী অধিবেশন: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি বা সাময়িকভাবে নির্বাচিত কেউ প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন, যা একটি বিরল ঘটনা।
  • বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার: বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করার কথা রয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, প্রথম বৈঠকের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ শেষে স্পিকারের স্বাগত ভাষণের পর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই লিখিত ভাষণে নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও নীতিমালার প্রতিফলন থাকে। ভাষণ শেষে সংসদ সদস্যরা এর ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন।

সংসদ যেভাবে পরিচালিত হয়

বাংলাদেশের সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালিত হয়। স্পিকারের অনুমোদনক্রমে ‘অর্ডার অব দ্য ডে’ বা দিনের কার্যসূচি তৈরি করা হয়। সাধারণত কোনো প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কণ্ঠভোটের সাহায্য নেওয়া হয়। তবে কোনো সদস্য আপত্তি জানালে ‘বিভক্তি ভোট’ বা গণনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।

নতুন এই সংসদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে নতুন সদস্যদের অংশগ্রহণ কেমন হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *