তিন পুরুষ ধরে জাতীয় পতাকা তৈরি, অথচ ভোটার তালিকায় ‘ডিলিটেড’ হাওড়ার সেই পরিবার

তিন পুরুষ ধরে জাতীয় পতাকা তৈরি, অথচ ভোটার তালিকায় ‘ডিলিটেড’ হাওড়ার সেই পরিবার

দক্ষিণ হাওড়ার উনসানি বাদামতলার এক সরু গলিতে তিন প্রজন্মের ঐতিহ্যবাহী পতাকা তৈরির কারখানায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। ব্রিটিশ আমল থেকে চলা এই কারখানায় রাজু হালদারের ঠাকুরদা স্বাধীনতার সময়ও জাতীয় পতাকা তৈরি করেছেন। বর্তমানে লোকসভা ভোটের আবহে তৃণমূল, সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেসের হাজার হাজার পতাকার বরাত সামলাতে দিনরাত এক করছেন ১৬ জন শ্রমিক। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফরমাস মেটাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে নিরলস সেলাই ও প্রিন্টিংয়ের কাজ।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে এখানে মুসলিম কারিগররা যেমন গেরুয়া নিশান তৈরি করেন, তেমনই তৈরি হয় মহরমের নিশানও। রাজু হালদার জানান, এবার তৃণমূল ও সিপিএমের পতাকার চাহিদা বেশি থাকলেও বিজেপির চাহিদা কিছুটা কম। তবে এই বিপুল কর্মব্যস্ততার মাঝেও কারখানার অন্দরে জমেছে এক গভীর বিষাদ। যে পরিবার কয়েক দশক ধরে দেশের পতাকা তৈরি করছে, সম্প্রতি সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে সেই রাজু হালদারসহ তাঁর পরিবারের তিনজনের নাম ‘ডিলিটেড’ বা বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ করেছেন রাজু। শুধু তাঁর পরিবারই নয়, সংশ্লিষ্ট বুথের প্রায় ২০০ জন এবং আশপাশের ১২টি বুথ মিলিয়ে হাজারেরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। নিজের শিকড় ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজু আক্ষেপের সুরে জানান, কাগজের নাম কাটলেও দেশের মাটির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ঐতিহ্যের কারখানায় সেলাই মেশিনের শব্দের মধ্যেই এখন গুমরে মরছে দেশপ্রেম ও অস্তিত্ব সংকটের এক অজানা আর্তনাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *