তিন সপ্তাহেই থামবে আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধ, শান্তির পথে ট্রাম্পের বড় চাল

ওয়াশিংটন, ১ এপ্রিল। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর তেলের বাজারে আগুনের মাঝে অবশেষে মিলল স্বস্তির ইঙ্গিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। যদিও ইরান সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই হয়তো যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ শেষ হওয়ামাত্রই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ দিয়ে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। চীন বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এই জলপথে নিজেদের জাহাজ রক্ষায় সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, আমেরিকা এখন নিজের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত তেল উৎপাদন করে, তাই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জলপথ পাহারার দায়ভার এখন থেকে ব্যবহারকারী দেশগুলোর ওপরই বর্তাবে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অবস্থান এবং ট্রুথ সোশ্যালে তার “যাও, নিজের তেল নিজেই সংগ্রহ করো” বার্তাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমেরিকা এবার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বলয় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে চাইছে। যুদ্ধ থামলে তেলের দাম কমবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।