তিমির জিনে অমরত্বের চাবিকাঠি, ২০০ বছর বাঁচতে পারে মানুষ!

তিমির জিনে অমরত্বের চাবিকাঠি, ২০০ বছর বাঁচতে পারে মানুষ!

সমুদ্রের অতল গহ্বরেই কি লুকিয়ে আছে মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য? সম্প্রতি বো-হেড তিমির ওপর গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মেরু অঞ্চলে বসবাসকারী এই বিশালাকায় প্রাণীরা স্বাভাবিক নিয়মেই প্রায় ২৬৮ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। আমেরিকার রচেস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, তিমির শরীরের বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্যই তাদের বার্ধক্য ও ক্যানসারের মতো মারণব্যাধি থেকে দূরে রাখে, যা মানুষের আয়ু ২০০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তিমির কোষে থাকা ‘সিআইআরবিপি’ নামক এক বিশেষ প্রোটিন ডিএনএ-র ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। মানুষের শরীরে ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই কোষের ক্ষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। কিন্তু তিমির ক্ষেত্রে এই প্রোটিন জিনের রাসায়নিক পরিবর্তন বা মিউটেশন রুখে দেয়, ফলে কোষের স্বাভাবিক বিভাজন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং বার্ধক্য থমকে যায়। এই প্রোটিনটি মূলত কোষের জন্ম-মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে রোগমুক্ত ও চিরতরুণ রাখতে সাহায্য করে।

ইতিমধ্যেই ল্যাবে পরীক্ষাামূলকভাবে কিছু পতঙ্গ ও মানুষের শরীরে এই প্রোটিন প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে দাবি গবেষকদের। তবে জলজ পরিবেশের তাপমাত্রা এবং স্থলভাগের মানুষের শরীরের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত গবেষণা চলছে। যদি এই বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা সফল হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে জরা-ব্যাধি জয় করে অমরত্ব লাভ বা দীর্ঘ যৌবন ধরে রাখা মানুষের জন্য আর কেবল কল্পনা থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *