তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে পাকিস্তান, আটার বস্তা ২ হাজার ছুঁল এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ৪৫৮ পার

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। একদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রভাব এবং অন্যদিকে শাহবাজ সরকারের একাধিক জনবিরোধী সিদ্ধান্তের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের ফলে জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দামে পাকিস্তানে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫২০.৩৫ রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪০ রুপিতে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ও নিত্যপণ্যের ওপর। ফলে মুদ্রাস্ফীতির হার গত জানুয়ারি মাসের ৫.৮ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৭.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাসের দামও আকাশছোঁয়া। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৫০০ রুপিতে।
খাদ্য সংকটের দিক থেকেও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটি। ২০ কেজির এক বস্তা আটার দাম ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,০০০ রুপিতে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি ডাল, দুধ ও সবজির দামও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান সুদের হার বাড়িয়ে ১০.৫ শতাংশ করেছে, যার ফলে ঋণ নেওয়া সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে। আইএমএফ-এর ঋণ পাওয়ার শর্তপূরণ করতে গিয়ে ভর্তুকি কমিয়ে ও কর বাড়িয়ে জনগণকে চরম বিপদে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান সরকার।