তীব্র দাবদাহ থেকে মিলবে মুক্তি, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

বসন্তের বিদায়লগ্নে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার পারদ সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করে তুলেছে। তবে এই হাঁসফাঁস করা গরমের মাঝে স্বস্তির বার্তা শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া বিদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রবিবার কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিলোত্তমায় বিকেলের পর থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা হতে শুরু করবে এবং সন্ধ্যা নাগাদ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও বৃষ্টির আগমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। বর্তমানে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোয় ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় রয়েছে। তবে বিকেলের পর আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান এবং হুগলি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখীর সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া দফতর থেকে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না হাওয়া অফিস। বজ্রপাতের সময় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলিতে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব বেশি অনুভূত হলেও মালদহ ও দুই দিনাজপুরে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও স্বাভাবিক থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে এক অস্থির কিন্তু স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার বাতাবরণ তৈরি হতে চলেছে।