তীব্র লড়াইয়ের ডাক নওশাদের: ৩৩ আসনে লড়ছে আইএসএফ, নন্দীগ্রাম নিয়ে জারি বাম-অস্বস্তি

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল স্পষ্ট করল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। শুক্রবার দলের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি জানান, বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আপাতত ২৯টি কেন্দ্রে লড়বে তাঁর দল। বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে ‘সর্বোচ্চ ত্যাগ’ স্বীকার করে আলিমুদ্দিনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দুই পক্ষ। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, দেগঙ্গা, হাড়োয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনসহ মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও মেদিনীপুরের নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ‘খাম’ চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আইএসএফ প্রার্থীরা।
তবে সমঝোতা হলেও নন্দীগ্রামসহ চারটি আসন নিয়ে বামফ্রন্টের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ভগবানগোলা এবং মুরারই—এই চার কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে অনড় নওশাদরা। অথচ বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই এই আসনগুলিতে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে আলিমুদ্দিন। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূলের পবিত্র করের বিরুদ্ধে বামেরা শান্তি গিরিকে সমর্থন জানালেও, আইএসএফ সেখানে প্রার্থী দিতে চাওয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নওশাদ ইতিমধ্যে বামেদের কাছে ওই আসনগুলি থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে ভাঙড় আসনের দিকে, যেখান থেকে বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি পুনরায় লড়াই করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর টক্কর এক অনন্য মাত্রা পাবে। নওশাদ জানিয়েছেন, পবিত্র ইদ উৎসবের মেজাজ কাটলেই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে আইএসএফ। অর্থাৎ, আগামী সপ্তাহ থেকেই যে নিবিড় জনসংযোগ ও ভোটের ময়দানে পূর্ণশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে ‘ভাইজানের’ দল, তা আজ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।