তীব্র সংকটে পাকিস্তান ঋণের জালে জর্জরিত অর্থনীতি ও যুদ্ধের ত্রিমুখী আঘাত

বৈদেশিক ঋণের পাহাড় আর অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির চাপে পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৯.৩২২ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে, যা জিডিপির ৭০ শতাংশ। আইএমএফ-এর ২৬টি বেলআউট প্যাকেজ সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছে, যার ফলে পরিবহন ও সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আরও ঘনীভূত করেছে। তোরখাম ও চামান সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও আফগান কয়লার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা সিমেন্ট শিল্পসহ স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আমদানি-রপ্তানি মন্থর হওয়ায় বাজারে আটা, ডাল ও চালের মতো খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীদের আশঙ্কা, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। একদিকে ঋণের বোঝা আর অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ—এই দ্বিমুখী সংকটে দেশটি দেউলিয়া হওয়ার পথে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকায় এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।