তৃণমূলই বিজেপির সবচেয়ে বড় বন্ধু কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে সরগরম বাংলার রাজনীতি

তৃণমূলই বিজেপির সবচেয়ে বড় বন্ধু কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে সরগরম বাংলার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করার পাল্টা জবাব দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বিজেপির সবচেয়ে বড় সহযোগী। অধীরবাবুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী সাফ জানান, যতক্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে আছেন, ততক্ষণ বিজেপির কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মমতাই বিজেপিকে বাংলায় নিয়ে এসেছিলেন এবং একসময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সমীকরণের নিরিখে তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং আদতে তারাই জোটবদ্ধভাবে লড়াই করে।

এনআরসি এবং অন্যান্য ইস্যু নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যে বিরোধ দেখা যায়, সেটিকে লোকদেখানো বলে আক্রমণ করেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিতেই মাঝে মাঝে এই দুই দল পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাদের মধ্যে সমঝোতা অটুট থাকে। এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজের ওপর হওয়া হামলার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন অধীর চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর পথ আটকানোর চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় পুলিশকে আগে থেকে এই আশঙ্কার কথা জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির মোকাবিলা করেই তাঁদের প্রচার চালিয়ে যেতে হয়। প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং ফলাফল আশাব্যঞ্জক হবে। অন্যদিকে, কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন তিনি। অধীরবাবু বলেন, যারা নিজের দেশের মানুষকে দু’বেলা খাবার দিতে পারে না, তাদের আক্রমণাত্মক কথা সাজে না। পাকিস্তানের উচিত অন্যদের নিয়ে কথা না বলে নিজেদের ক্ষুধার্ত জনগণের কথা ভাবা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *