তৃণমূলের অন্দরে ‘গোপন শত্রু’ চিহ্নিত করে কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের

তৃণমূলের অন্দরে ‘গোপন শত্রু’ চিহ্নিত করে কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অভ্যন্তরে থাকা অন্তর্ঘাত এবং প্রার্থী পদ নিয়ে ক্ষোভের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি রায়নার নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে তিনি কোনো প্রকার আপস করতে রাজি নন, তা তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, দলের কিছু স্তরে ‘বিশ্বাসঘাতক’ লুকিয়ে রয়েছে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় রাতের অন্ধকারে বিরোধী দল বিজেপির থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই ধরণের কর্মকাণ্ডের ওপর দলের উচ্চনেতৃত্বের যে কড়া নজর রয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সাবধান করে দিয়েছেন।

প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে থাকা অসন্তোষ প্রশমিত করতে অভিষেক সাফ জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মতামতের ঊর্ধ্বে দলকে স্থান দিতে হবে। রাজনীতিতে ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলের নির্দেশ বড় হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে টিকিট না পাওয়া বা পছন্দের প্রার্থী না হওয়ার কারণে যারা ক্ষুব্ধ, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে এবং মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই থাকতে হবে।

জনসভা থেকে হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, আগামী ৪ঠা জুন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনেই বোঝা যাবে কারা প্রকৃত অনুগত। তিনি রায়নার কর্মীদের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল প্রার্থীকে অন্তত পঞ্চাশ হাজার বা তার বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে হবে। এই বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করাই হবে বিশ্বাসঘাতকদের যোগ্য জবাব। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গাফিলতি বা তলে তলে অন্য দলের সাথে যোগাযোগ রাখলে তাঁর পরিণাম শুভ হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং কোন্দল রুখতে অভিষেকের এই কড়া মেজাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই হুঁশিয়ারি নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং বিভেদ সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করবে। প্রাঞ্জল ভাষায় এবং সরাসরি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেওয়া এই বার্তা তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার শেষ মুহূর্তের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, রায়নার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একযোগে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার ডাক দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নকে সামনে রেখে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, শৃঙ্খলার প্রশ্নে তৃণমূল জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া দাওয়াই নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *