তৃণমূলের জমানায় বিচারকেরাও সুরক্ষিত নন, কালিয়াচকে জঙ্গলরাজের অভিযোগে সরব মোদী

তৃণমূলের জমানায় বিচারকেরাও সুরক্ষিত নন, কালিয়াচকে জঙ্গলরাজের অভিযোগে সরব মোদী

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচকে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং রেসপন্সিবিলিটি বা এসআইআর (SIR) কাজে নিযুক্ত বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি একে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসনামলে খোদ বিচারকেরাও রেহাই পাচ্ছেন না। কালিয়াচকের ঘটনাকে তৃণমূল সরকারের নির্মম শাসনের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, গোটা দেশ দেখেছে কীভাবে কর্তব্যরত বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজ্যে আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন।

কালিয়াচকের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “তৃণমূলের শাসনে যেখানে খোদ বিচারক ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ বড়সড় প্রশ্নের মুখে।” তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে বিচারব্যবস্থার কর্মীদের ওপর এই ধরনের আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি রাজ্যের শাসনব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে রাজ্যে বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে অপরাধীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে এবং যারা আইন রক্ষা করার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদেরই কোণঠাসা করা হচ্ছে। মালদার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে আবেদন করেন এই ‘অরাজকতার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য। তাঁর মতে, বিচারকদের আটকে রাখা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদার এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড়সড় প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। বিচারকদের আটকে রাখার মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর সরব হওয়া রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মালদার এই বিতর্কিত কাণ্ড এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *