তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তারুণ্যের জয়গান, অভিষেকের ‘বয়ঃসীমা’ তত্ত্বের প্রতিফলন

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তারুণ্যের জয়গান, অভিষেকের ‘বয়ঃসীমা’ তত্ত্বের প্রতিফলন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থিতালিকায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নবীন-প্রবীণ’ তত্ত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২৯১ জনের তালিকায় দেখা গেছে, প্রায় ৭৬ শতাংশ প্রার্থীর বয়সই ৬০ বছরের নীচে। এর মধ্যে ১৩০ জন প্রার্থীর বয়স ৫০ বছরের কম, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ। রাজনীতিকদের অবসরের নির্দিষ্ট বয়স থাকা উচিত বলে অভিষেকের দীর্ঘদিনের দাবির ছাপ এবার প্রার্থী নির্বাচনে পরিলক্ষিত হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা দলের পাথেয় হলেও মাঠের লড়াই ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তারুণ্য অপরিহার্য। সেই ভাবনা থেকেই এবার দেবাংশু ভট্টাচার্য ও মধুপর্ণা ঠাকুরের মতো তরুণ মুখদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে, ষাটোর্ধ্ব প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৪ শতাংশে নামিয়ে এনে প্রবীণদের এক প্রকার ‘সংখ্যালঘু’ সারিতে রাখা হয়েছে। এমনকি বিদায়ী বিধায়ক তালিকার অনেক প্রবীণ নেতাকেও এবার টিকিট দেওয়া হয়নি।

তালিকায় নবীন-প্রবীণের মিশেল থাকলেও মূল গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যবয়স্ক ও যুব সমাজ। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞদের ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে রেখে দল ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কিছু নেতা টিকিট পেলেও, বংশ পরম্পরার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতাকেই প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পেশাদারিত্ব ও আধুনিক রাজনীতির মেলবন্ধনে এই তালিকা সাজিয়েছে শাসক শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *