তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে হামলার হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন কালীঘাটেও হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের গুন্ডামির হিসাব নেওয়া শুরু হয়েছে। শশী পাঁজার বাড়ি বা চেতলা এমনকি কালীঘাটেও হামলা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের পালটা মার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন।
বিজেপির তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তীর সুরেই দিলীপ ঘোষ আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অত্যাচারের যোগ্য জবাব দিতে কর্মীরা প্রস্তুত। শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে মন্ত্রীর ‘নাটক’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, আগামীতে সাবধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর হওয়া পূর্বতন হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এবার তৃণমূলের যাবতীয় কর্মকান্ডের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় মিটিয়ে দেওয়া হবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও গোষ্ঠীকোন্দল, অন্যদিকে প্রবীণ নেতাদের এমন চরমপন্থী মন্তব্য—সব মিলিয়ে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল শিবির থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ের আগে এই ‘হুমকির রাজনীতি’ নতুন কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।