তেজস যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের দ্রুত জোগান নিশ্চিত করতে ভারতকে বিশেষ আশ্বাস দিল আমেরিকা

তেজস যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের দ্রুত জোগান নিশ্চিত করতে ভারতকে বিশেষ আশ্বাস দিল আমেরিকা

ভারতে তেজস এমকে-১এ (Tejas MK-1A) যুদ্ধবিমান প্রকল্পের গতি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল আমেরিকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যাল (HAL)-কে আশ্বস্ত করেছে যে, এই বছরের শেষ নাগাদ তারা ২০টি এফ-৪০৪ (F404) ইঞ্জিন সরবরাহ করবে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ডি.কে. সুনীল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই ২০টি ইঞ্জিনের ডেলিভারি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে জোগান প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও হ্যাল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। হ্যালের চেয়ারম্যানের মতে, বর্তমানে হাতে থাকা মজুত যন্ত্রাংশ দিয়ে তারা প্রাথমিক কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা থেকে ইঞ্জিনগুলো এসে পৌঁছালে প্রকল্পের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হ্যাল-এর কাছে বর্তমানে ৫টি ইঞ্জিন মজুত রয়েছে। এপ্রিলে ষষ্ঠ ইঞ্জিনটি এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদি এই সরবরাহ সঠিক সময়ে হয়, তবে এ মাসের মধ্যেই আরও ৫-৬টি তেজস বিমান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তবে ইঞ্জিনের এই বিলম্বের কারণে হ্যাল ইতিবাচক বার্তা দিলেও চুক্তির শর্তানুযায়ী তারা জেনারেল ইলেকট্রিক সংস্থার ওপর জরিমানা বা ‘লিকুইডেটেড ড্যামেজ’ আরোপ করেছে। ভবিষ্যৎ সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।

ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে তেজস বিমান হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। প্রথমে এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২৫ সাল রাখা হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাস করা হয়েছিল। বর্তমানে হ্যালের কারখানায় ৫টি বিমান চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও ইঞ্জিনের অভাবে বায়ুসেনার কাছে তা হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। রাডার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের ক্ষেত্রেও কিছুটা প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আগামী মে মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা এই পুরো প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে চলেছে। সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই ঠিক হবে যে, বিমানগুলো কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বহরে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তেজস এমকে-১এ প্রোগ্রামের আওতায় মোট ১৮০টি বিমানের বিশাল অর্ডার রয়েছে। হ্যাল জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন পরিকাঠামো এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ইঞ্জিন সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *