তেহরানে ভয়াবহ বিমান হামলা, প্রাণ হারালেন ১৩ জন, ক্ষতিগ্রস্ত শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে সোমবার এক ভয়াবহ বিমান হামলায় কেঁপে উঠল তেহরান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে এই আকাশপথের হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে। হামলার তীব্রতায় এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
সোমবার রাতভর তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ করা হয়। এই হামলার ফলে ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী একটি প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্র উপস্থিত ছিল না। চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অনলাইনে পঠনপাঠন চলছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে যে, ইরানের অর্ধসামরিক বাহিনী ‘রেভল্যুশনারি গার্ড’ নিয়ন্ত্রিত ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসূত্র রয়েছে। ইতিপূর্বে বেশ কিছু দেশ এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল।
অন্যদিকে, তেহরানের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোম-এর একটি আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দেশের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলা চললেও ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারি স্তরে বজায় রাখা হয়েছে কঠোর গোপনীয়তা।
সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) তেহরানের ‘ডিস্ট্রিক্ট ৯’-এর আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস স্টেশনে হামলার কারণেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা এখনও কাটেনি।