দক্ষিণ ২৪ পরগনায় থমকে থাকা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যের অন্যান্য জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতি এখনও জটিল। আইনি বিবাদের জেরে আটকে থাকা ১ হাজার ৫০৫ জনের প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্য নির্ধারণে এবার হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এল চন্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে জানতে চেয়েছে, আবেদনকারীদের নিয়োগে রাজ্য আদৌ রাজি কি না।
নিয়োগ ঘিরে আইনি জট ও জটিলতা
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদ এবং প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের সংখ্যার মধ্যে অসঙ্গতি এই আইনি লড়াইয়ের মূল কারণ। জেলাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেখানে ১ হাজার ৮৩৬টি শূন্যপদের কথা জানানো হয়েছিল, সেখানে পর্ষদ মাত্র ১ হাজার ৫০৫ জনের একটি প্যানেল প্রকাশ করে। এই ৩৩১টি শূন্যপদের ব্যবধান নিয়ে প্রার্থীদের মনে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রাজ্যের অবস্থান
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যকে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। আদালত জানতে চেয়েছে, সবদিক বিবেচনা করে সরকার ওই প্রার্থীদের নিয়োগে রাজি কি না। ১৩ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। তার আগেই রাজ্য সরকার ও পর্ষদকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত বক্তব্য জানাতে হবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এই নিয়োগ বিভ্রাটের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্যানেলভুক্ত হওয়ার পরেও হাতে নিয়োগপত্র না আসায় দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য ইতিবাচক সাড়া দিলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষক ঘাটতির পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।