দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সাড়ে ৪ লক্ষ মহিলা ভোটার বাদ: রাজনৈতিক সুবিধায় কার পাল্লা ভারী?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল ঘটেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪২ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ লক্ষে। অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মৃত, স্থান পরিবর্তন কিংবা সঠিক নথি জমা না দেওয়ার কারণে এই নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
এই পরিসংখ্যান নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা দেখছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল মূলত মহিলা ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল, তাই এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। গেরুয়া শিবিরের মতে, ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা বা ‘অ্যাডভান্টেজ’ তৈরি করবে। অন্যদিকে, ১৮-১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বাদ পড়ায় জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
পাল্টা যুক্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা বাদ পড়ার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ও মহিলারা যে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাতে তাঁরা বিজেপির ওপর ক্ষুব্ধ। শাসক দলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা এবং সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে মহিলারা ঘাসফুল শিবিরের পাশেই থাকবেন। নতুন করে যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁদের সিংহভাগও তৃণমূলকেই সমর্থন করবেন বলে দলের নেতৃত্ব আশাবাদী। আপাতত এই ভোটার সংখ্যা হ্রাসের প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।