দশের খরা কাটিয়ে তেভাগার গড়ে ফিরছে লালঝাণ্ডা, উজ্জীবিত বাম শিবির

দীর্ঘ এক দশক পর তেভাগা আন্দোলনের পুণ্যভূমি কাকদ্বীপে সিপিএমের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে জোটের সমীকরণে এই আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বাম দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে নিজস্ব প্রার্থীর অভাবে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে নারায়ণ দাসের নাম আসায় তা ব্যাপক উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়েছে।
কাকদ্বীপের বুধাখালি থেকে সংগঠিত তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস আজও অমলিন। বর্তমানে সিপিএম প্রার্থীকে সামনে রেখে লালঝাণ্ডা কাঁধে পথে নেমেছেন কর্মীরা, যেখানে অন্যান্য দলগুলোর প্রচারে এখনও বিশেষ গতি দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় বামেদের একটি বড় অংশের ভোট বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। তবে এবার নিজেদের প্রতীকে লড়াই হওয়ায় সেই ভোট পুনরায় বামেদের ঝুলিতে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল।
পাল্টা যুক্তিতে তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা ও বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা বামেদের এই উত্থানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তৃণমূলের দাবি, সিপিএম তাদের আদর্শ ধরে রাখতে পারবে না। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, যে বাম সমর্থকরা একবার গেরুয়া শিবিরে এসেছেন, তাঁরা আর পুরনো ঠিকানায় ফিরবেন না। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে সিপিএম প্রার্থী নারায়ণ দাস জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।