দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কি আদৌ সরল? পুলিশের থেকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর দাগি রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কাজ কতদূর এগোল, তা জানতে এবার পুলিশের কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করল কমিশন। বিশেষত যারা জামিন বা প্যারোলে মুক্ত, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের ইতিহাস রয়েছে, তাদের কেন এবং কীভাবে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছে কমিশন। রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারকে দ্রুত এই সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ঘিরে ভোটমুখী রাজ্যে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এর আগে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত ‘অপ্রয়োজনীয়’ নিরাপত্তা সরিয়ে নিতে হবে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল যে, পদমর্যাদা বা হুমকির নিরিখে যারা বর্তমানে সরকারি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা থাকলেও তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা যাচাই করতেই এই তৎপরতা।
নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পাশাপাশি অপরাধ দমনেও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। যারা জামিনঅযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত অথচ এখনও অধরা, তাদের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। থানার ওসি ও এসএইচও-দের মাধ্যমে সেই সমস্ত ‘দুষ্কৃতী’ বা ‘গুন্ডাদের’ তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যারা বিগত নির্বাচনগুলোতে অশান্তি পাকানোর কাজে জড়িত ছিল।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এবং নির্বাচনের আগে পেশিশক্তির প্রভাব রুখতে কমিশন যে কোনও আপস করতে নারাজ, তা এই স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলবের মাধ্যমে আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই রিপোর্টে কাদের নাম উঠে আসে এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।